Showing posts with label মুক্তিপ্রকাশ রায়. Show all posts
Showing posts with label মুক্তিপ্রকাশ রায়. Show all posts

Tuesday, January 23, 2018

টেনস-অন

টেনস-অন
মুক্তিপ্রকাশ রায়

এখনকার সরকারি ইস্কুলে পড়াশোনার সঙ্গে সরকারি স্বাস্থ‍্যব‍্যবস্থার কিছুটা মিল আছে। দুটিরই সাধারণ ধর্ম -- সিগনিফায়ার আর সিগনিফায়েডের দ্বন্দ্ব। যেমন এখন ডাক্তারবাবু 'অজানা জ্বর' বললে সেটা 'ডেঙ্গি'র ইউফেমিজম বুঝতে হয়, তেমনই উচ্চমাধ‍্যমিকে ইংরেজিতে আশি পেলেও শিক্ষার্থী ম্লেচ্ছ ভাষায় সদ‍্য-সাক্ষর বই কিছু নয় বলেই ধরা ভালো (ব‍্যাপারটা অন‍্যান‍্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ‍্য হতে পারে)। অন্তত আমাদের এলাকায় বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীরই ওই দশা। বিশ্ববিদ‍্যালয়ের গজদন্তমিনারে বসে যাঁরা পাঠ‍্যক্রম নিয়ে গবেষণা করেন (যাতে গ্রামেগ্রামে কেমব্রিজনিন্দিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরি করা যায়), তাঁরা গ্রামের অধ‍্যাপকের দায়িত্বদুরূহতা কল্পনা করতে পারবেন না।
     আমার কলেজে উচ্চমাধ‍্যমিক প্রহসনে ইংরেজিতে আশি-পাওয়া ছাত্রছাত্রীর অধিকাংশই টেনস-টুকুও জানে না। টেমসের তো নামই শোনেনি। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে-- এ-হেন ছাত্রছাত্রীর ইংলিশ অনার্স পড়ার দরকার কী; বা ইস্কুলে যে কিছু শিখে উঠতে পারেনি, তার কলেজে ভরতি হওয়ার উপযোগিতা কোথায়। সরকার আসলে প্রাথমিক শিক্ষার মতো উচ্চশিক্ষাকেও সর্বজনীন করে তুলতে উদ‍্যোগী; এ তারই ফল। তবে তা না করলে এতগুলো কলেজও তৈরি হত না, আর আমাদের মতো অভাগার অন্নসংস্থানও হত না। এতজনকে বি.এ. পাস করানোর পুণ‍্যেই যে নিজে শেষপর্যন্ত বিয়ে পাস করতে পেরেছি, তাতে সন্দেহ নেই।
     কৃতজ্ঞতাবশত দায়িত্বজ্ঞানের হদ্দমুদ্দ দেখিয়ে আমি মাঝেমাঝে ছানাদের টেনস, ট্রানস্লেশন ইত‍্যাদি অবসরমতো শেখাতে চেষ্টা করি; যাতে বিদেশি সাহিত‍্যসাগরে তাদের (ডগপ‍্যাডেলিং করে অন্তত) প্রাণরক্ষা সম্ভব হয়। আগে তো শুদ্ধ ইংরেজিটা লিখতে শিখুক, তারপর নাহয় শেক্ষপিরের দরগায় সিন্নি চড়ানো যাবে -- ঈদৃশ ভাবনায় চালিত হয়ে আমি প্রত‍্যেক বছরই ছাত্রছাত্রীর জন‍্য টেনস-অন করে থাকি। এরকমই এক সমাজসেবার গপ্পো বলি।
     একটি মেয়ে, যে কিনা ইংরেজিতে উচ্চমাধ‍্যমিকের দানসত্রে অত‍্যুচ্চ নম্বর বাগিয়েছে, আমাকে টেনস শেখানোর ক্লাসে হরিণশিশুর সারল‍্যমেশানো বড়োবড়ো চোখ মেলে প্রশ্ন করল -- পার্সন ব‍্যাপারটা কী?
     এখন পার্সন না বুঝলে সিম্পল প্রেজেন্ট টেনসে থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বারের ভার্বে যে s/es যোগ করতে হবে সেটি মাথায় ঢুকবে না। তাই অনেক কুস্তি করে ব‍্যাপারটা বোঝানো হল। মানে, যতটা সরল করে সম্ভব আর কী। পরীক্ষা করার জন‍্য একটা ট্রানস্লেশন দেওয়া গেল -- শিল্পা স্কুলে যায়।
- Shilpa go to school, মেয়েটির তুরন্ত জবাব।

যারপরনাই ফ্রাস্টু খেয়ে ফুঁসে ওঠা আটকানো গেল না, এই যে এত শেখালুম! তাও 'গো' বললি? এত 'গোঁ' তোর? 'Goes' হবে না?

মেয়েটিও ক্ষুব্ধ, আপনিই তো বললেন -- 'আমি/তুমি' এসব হলে s/es হবে না!

আমি/তুমি পাচ্ছিস কোথায় তুই? --আমি অবাক। বললুম তো 'শিল্পা স্কুলে যায়'!

মেয়েটি মিষ্টি হেসে বলল, ও মা! শিল্পা তো আমারই নাম! ওটা তো আমিই! তাহলে ঠিকাছে তো স‍্যার?

#মুক্তিপ্রকাশরায়

Sunday, January 21, 2018

সরস্বতীপুজো: ২০১৮

সরস্বতীপুজো: ২০১৮
মুক্তিপ্রকাশ রায়

আগে টিনটিন ছিল
আর আলাদিন ছিল
তারপরে মা তোমার
কাছে কিছু ঋণ ছিল

ডান্সে নাগিন ছিল
ব্লু ডেনিম জিনস ছিল
গরম খিচুড়ি ছিল
তাতে সয়‍্যাবিন ছিল

ভিড়ে চোখ চিনছিল
বুকে চিনচিন ছিল
হলুদ শাড়িরা পথে
টোপাকুল কিনছিল

আমাদেরও দিন ছিল
"ডোন্ট মেক আ সিন" ছিল
"আই লাভ য়‍্যু"-র পরে
"হোয়াট ডু য়‍্যু মিন?" ছিল

#মুক্তিপ্রকাশরায়

Tuesday, January 16, 2018

কিম্ভূত

কিম্ভূত
মুক্তিপ্রকাশ রায়

কেন তুই মোটা এত?
কেন তুই কঞ্চি?
কেন তোর ব্রেনে ঠাসা
বালি আর স্টোন-চিপ?
কেন তুই হাত-খোলা?
কেন তুই কঞ্জুস?
কী খেয়ে লম্বা হলি
কী টনিক? কোন জুস?
মার্কেটে এতকিছু
দুধ, সাবু, বার্লি
তাও তুই কোন মুখে
বেঁটে হতে পারলি!
কেন তুই মালাউন?
কেন তুই ম্লেচ্ছ?
সর্বদা তোর গায়ে
কেন ও-দলের ছোপ?
কেন তুই কালো এত?
শ্বেতি কেন চিবুকে?
আয় ব‍্যাটা কিম্ভূত
স্ট‍্যাম্প মেরে দি বুকে
পারফেক্ট দুনিয়ায়
এত কেন খুঁত তোর?
কে বাঁচাবে? কে জোগাবে
শো-কজের উত্তর?


#মুক্তিপ্রকাশরায়

Friday, January 12, 2018

আপৎকালীন

আপৎকালীন
মুক্তিপ্রকাশ রায়

(ছন্দসূত্র মূলত: ড‍্যাংডা ড‍্যাঙাড‍্যাং ড‍্যাংডা ড‍্যাং)

কোনটা প্রতিবাদ, কোনটা তেল
ডান পা চাটে কি না বাম আঁতেল
কে মাওবাদী আর কে সম্পদ
কে বদ, তবু অতি বশংবদ্
সিনেমা হলে খাড়া দেশপ্রেম--
কে জানে ঢেকে রাখে কী প্রবলেম
কারা যে ঘুষ খায়, কে ননভেজ
বাতাসে কারা শোঁকে  বিফ, সসেজ
কাকে যে ভয় করি -- পাক না চিন
প্রশ্ন             ফুটে ওঠে
প্রশ্ন             উথলোয়
ঢাকনা দিন, দাদা, ঢাকনা দিন

#মুক্তিপ্রকাশরায়

Monday, January 8, 2018

আশিকি ২০১৮

আশিকি ২০১৮
মুক্তিপ্রকাশ রায়

আজও ওড়ে চিল, পাথুরে পাঁচিল, হিংসুটে চোখ পাহারায়
তাও সবখানে প্রেমিকেরা জানে, জব তুম আও বাহার আয়ে
একে টাকা নেই, মামা-কাকা নেই, তায় দুশমন জমানা
তোরও বহু গুণ, অ্যাটিলা দ‍্য হুন, শুধু রাগ আছে, ক্ষমা নাই
টেলিফোন নেই; পড়ি, মন নেই; ধরেবেঁধে দিবি ফাঁসি কি?
লাভ কী বা তোর ছুড়ে পাত্থর, বদনাম করে আশিকি-র?
কার সাথে গেলি, ঝুমকা গিরালি কোন বরেলির বাজারে
সব কিছু ক্ষমা করে প্রিয়তমা আমি জিসাস অব নাজারেথ
চিকনি চামেলি, ফ্লার্ট করে গেলি,  বদনাম হল মুন্না
কাঁটা পেতে শুই, ভেবে বল তুই, এও কি আসলে খুন না?

#মুক্তিপ্রকাশরায়

ভাগ‍্যিস

ভাগ‍্যিস
মুক্তিপ্রকাশ রায়

ভাগ‍্যিস গায়ে লোম কিছু বেশি
বউ বলে, যেন গোরিলা
নইলে এ-শীতে গা ঘামাতে চাই
কুস্তি, জগিং, দড়িলাফ
অত হুজ্জতি ভালো লাগে কারও
সুস্থ শরীরে খামখা?
বাবা কিনে দেয় হনুমান টুপি
বন্ধুরা বলে, রাম খা
বজরং টুপি দেখে শালি হাসে
রাম দেখে কাড়ে রা বোনও
চানের সময় কেঁপে উঠি যেন
বালতিতে মহাপ্লাবন ও
ঘায়ের ওপর প্রলেপের মতো
লেপ এসেছিল বিয়েতে
রাতে লেপ কেড়ে লেপের মালিক
যেন ছুরি মারে ইয়ে-তে
পণপ্রথা জানি অভিশাপ, তাই
মৃদু হেসে বলি, পাগলি!
এত রাত্তিরে পোষাবে এ-দুটো
স্নো-বল সমেত জাগলিং?
নই আমি কোনও মেরুভল্লুক,
সিলমাছও নই, স‍্যান্টাও
মারবিই যদি, তিলে তিলে কেন
অন করে দে-না ফ‍্যানটাও
এ-শীতও আমার বশ মেনে গেছে
সাপ যেরকম সাপুড়ের
ভাগ‍্যিস গায়ে লোম কিছু বেশি
যেমন অনিল কাপুরের

#মুক্তিপ্রকাশরায়

Friday, December 29, 2017

নতুন বছরের ছড়া: ২০১৮

নতুন বছরের ছড়া: ২০১৮
মুক্তিপ্রকাশ রায়

ভোর হোক, আলো হোক
চুলো হোক, চালও হোক
সাঁওতাল বেঁচে থাক
পাশে জিন্দালও হোক

সতেরোর ভুলগুলো
আঠারোয় ঠিক হোক
হাতে হাত ঠেকে গেলে
পুরোনো ম‍্যাজিক হোক

প্রেম হোক, ইয়ে হোক
চাকুরের ডিএ হোক
আইবুড়ো কবিদের
আঠারোয় বিয়ে হোক

মোড়ে মোড়ে চপও হোক
ঘরে ঘরে জবও হোক
যাদবপুরের মোড়ে
'হোক কলরব'ও হোক

ভয়টয় দূর হোক
যার শুধু পাউরুটি
       তার ঝোলাগুড় হোক
বিভেদ-কুকুর এলে
তেমনই মুগুর হোক

পৃথিবীর ভালো হোক
কম জঞ্জালও হোক
      ফেয়ার-অ্যান্ড লাভলি-কে
      না কিনুক পাবলিকে
কালো মানুষেরা মাথা
উঁচু করে কালো হোক

#মুক্তিপ্রকাশরায়


কবির মৃত‍্যু

কবির মৃত‍্যু
মুক্তিপ্রকাশ রায়

কেউ খালি পা-য়, কেউ তালি পায়
কেউ কাল-ই পায় বুঝি জ্ঞানপীঠ
মোছা কারও গদি, নয় স্ববিরোধী
মমতা বা মোদি কারও দেন পিঠ--
চাপড়িয়ে তাই বাড়ে ইয়েটাই
শুধু ডিএটাই নাকি লাট খায়
কেউ বিপ্লবী, কারও deep love-ই
তাঁকে cheap কবি হতে আটকায়
কেউ লোভী তাও, ছাপা ছবিটাও--
চায়, কবিতাও উপলক্ষ‍্য
পেলে এডিটার, তেল রেডি তার
পোষা টেডিটার মতো সখ‍্য
পাতা ঝরে যাক, শ্রোতা সরে যাক
পাশে মরে যাক কেউ স্টেজেতে
সে তো হেরো, ছাড়, তাকে করে বার
কারা হারে আর দেখি কে জেতে

#মুক্তিপ্রকাশরায়

Tuesday, December 19, 2017

বিপথগামী

বিপথগামী
মুক্তিপ্রকাশ রায়

যারা খোঁজে তারা পায়, আমাদের হারানো স্বভাব
সংসার ডুবে গেলে, কবিতার মুঠিমাত্র লাভ
পথিক, তুমি কি পথ হারিয়েছ? ডেকে বলে কারা
আলেয়ার মতো শব্দ বিপথের দেখায় ইশারা
মহাকাল জানে, তাই আমরাও মেনেছি নীরবে
ব‍্যাধের তিরের ফলা একদিন মহাকাব‍্য হবে
হিসেবে চলতে বল, তবু রয়ে যায় ভুলচুক
এভাবেই কবিদের ঔদ্ধত‍্য বজায় থাকুক

#মুক্তিপ্রকাশরায়

Wednesday, November 15, 2017

শিশুদিবসের প্রার্থনা: ২০১৭

শিশুদিবসের প্রার্থনা: ২০১৭
মুক্তিপ্রকাশ রায়

ধমক দিলে মুচকি হাসে
বাঁধতে গেলে উধাও
উসকে দিলেও জ্বালায়, আবার
জ্বলবে যদি ফুঁ দাও
গোল্লা পেলে ঘোর বেহায়া
তোল্লা পেলে ব্লাশিং
কাণ্ড দেখে সবাই ভাবে
লেজ কেন নেই, বা শিং
পদ মানে না, ছক জানে না
বিপদ ডাকা স্বভাব
বিজ্ঞজনে বোঝায় তবু
কাটছে না এই raw ভাব
এমন শিশুই আসল শিশু
যার বাড়ে না বয়স
যায় আসে না আজ যদি তুই
ষাট অথবা ছয় হোস
জীবন আলিবাবার গুহা
রোজ সে শিশু অবাক
এমন শিশু এমন দিনে
সব বিষয়ে 'ক' পাক


Friday, November 10, 2017

কলম বনাম রাজামশাই

কলম বনাম রাজামশাই
মুক্তিপ্রকাশ রায়

রাজার এখনও
কলমে ভয়
এখনও লড়াই
কলমে হয়!
রাজার ভুঁড়ি বা
অর্গ‍্যাজম
সব কিছু নিয়ে
সারক‍্যাজম!
বেঁটেখাটো কবি
রোগা লেখক
ওঁচা কাগজের
প্রতিবেদক
মেডেল, মালাই,
উচ্চপদ
তবু খুশি নয়
এমনই বদ
সবকটা পাজি
বা বেইমান
ছড়াতে, কার্টুনে
যাবেই মান
জ্বালানে কলম
ধারালো নিব
বোঝে না মন্ত্র
টেক অ্যান্ড গিভ

Saturday, November 4, 2017

ডিকনস্ট্রাকশন

ডিকনস্ট্রাকশন
মুক্তিপ্রকাশ রায়

তেরোই জানুয়ারি, দুহাজার। ডেটটা এখনও ভুলিনি দেখছি। একটা কাপের চা দুভাগে ভাগ করতে করতে বলেছিল প্রবাল -- মেয়েদের সিগনাল ক‍্যাচ করার চেয়ে ডিকনস্ট্রাকশন বোঝা সহজ।

তখন আমাদের সেকেন্ড ইয়ার চলছে স্কটিশে। আগেরদিন কান্তাদি-র থিয়োরিকণ্টকিত লেকচারটা পুরো ট‍্যান হয়ে গেছে।

     অবশ‍্য অনেকে মনে করতে পারেন যে মেয়েদের বোঝা ইংলিশ অনার্সের জন‍্য খুব একটা জরুরি নয়, গায়নিকোলজি বা সাইকোলজি হলে তাও বা ভাবা যেত। তবে সাহিত‍্যে হৃদয়বেদনার জায়গা তো আছেই। হস্টেলের ভাষায় যাকে 'চুলকুনি' বলা হয়। তার ওপর আমরা দুজনেই মফসসলের আমদানি, তায় চিরকাল বয়েজ স্কুলের ছাত্র। মেয়েদের সঙ্গে মেলামেশার অভিজ্ঞতা রাহুল গান্ধির রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার সমতুল‍্য হওয়ায় ছোঁকছোঁকানি বেশি; টিউশনে মফসসলি বান্ধবীদের থেকে টেস্ট পেপার চাইতে গেলেও গলা কেঁপে যেত, যেন কুপ্রস্তাব দিচ্ছি। পথেঘাটে পুংবন্ধুদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেলে মেয়েগুলো বাড়ির লোকের কাছে দাবড়ানি খেত।
     কলকাতার কলেজে ভরতি হতে এসে প্রথম দিনই মন একেবারে ফুরফুরে। কত্ত মেয়ে! তাদের পোশাক-আশাকে আলোহাওয়া চলাচলের কত-না ব‍্যবস্থা! মেয়েদের পোশাকের ব‍্যাপারে আমি চাইতুম পোড়া দেশে একটা বিপ্লব আসুক। ক্লাস নাইন-টেন থেকেই আনন্দলোকের পাতা থেকে সিডাকটিকিট সংগ্রহ করতুম। তবে আমাদের ওদিককার মেয়েগুলো কেমন যেন! একটু পিছিয়ে-পড়া টাইপ। অ্যাদ্দিনে যেন খরা কাটল। স্কটিশের মেয়েগুলোকে দেখে বাবা পর্যন্ত দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে গেল, দুনিয়া কত এগিয়ে গেছে!
     অনেক ফ‍্যান্টাসি নিয়ে তো ভরতি হওয়া গেল। ও মা! ক্লাস করতে গিয়ে দেখি মিনি স্কার্ট পরা মেয়েগুলো সব ভ‍্যানিশ! বেশিরভাগ মেয়েই সালোয়ার-কামিজ পরে এসেছে, কয়েকজন শাড়িও।
     যাক্কলা! সেই মেয়েটা গেল কোথায় যে শার্টটা জিনসের প‍্যান্টের বেশকিছুটা ওপরে গিঁট দিয়ে পরেছিল? ভেবেছিলুম ইংলিশ ডিপার্টমেন্টের মেয়েগুলো একটু বেশিই খুল্লমখুল্লা হবে, যেমন বাংলা সিনেমার চেয়ে ইংলিশ সিনেমায় ইয়েটিয়ে একটু বেশি থাকে। কোথায় কী? ভুল করে অন‍্য কোনও ডিপার্টমেন্টে ঢুকে পড়িনি তো? ইত‍্যাকার সাতপাঁচ ভাবতেভাবতে ফ্রাস্টু খেয়ে লাস্ট বেঞ্চে গিয়ে বসে পড়েছিলাম। সেখানে আশুতোষ রানার মতো বড়ো বড়ো চোখ নিয়ে গম্ভীরভাবে সমস্ত ক্লাসটাকে আমারই মতো জরিপ করছিল আর একজন। এভাবেই আমার প্রবালের সঙ্গে আলাপ।

অলিভাকে শেষপর্যন্ত খুঁজে পাওয়া গেল ইতিহাসের ক্লাসে। আমার আর প্রবালের অন‍্যতম পাস-সাবজেক্ট ছিল ইতিহাস। পছন্দের বিষয়টি যে এতটা উত্তেজক হবে তা আগে বুঝিনি। অলিভা সেদিন অবশ‍্য শার্টে গিঁট দিয়ে আসেনি। লাল স‍্যান্ডো গেঞ্জিটাইপের জামা পরেছিল একটা। সামনের কাট-টা গভীর হওয়ায় ইতিহাস ক্লাসেও ভূগোলের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। গলা থেকে হারের লকেট হিসেবে ঝুলছিল একটা ক্রিস্টাল বল, যা স্তূপ পর্বত আর গ্রস্ত উপত‍্যকার ওপর গড়ানে পেন্ডুলামের মতো যাতায়াত করছিল।
     কিন্তু ধন‍্যি বিশ্বদেববাবুর কনসেন্ট্রেশন।  এইসব লোক তপস‍্যা করলে মেনকা-টেনকাও ধ‍্যান ভাঙাতে এসে  ফেল মারত। চোখের সামনে ওইরকম দৃশ‍্য দেখেও এতটুকু বিচলিত না হয়ে পড়িয়ে চললেন। স্কটিশে পড়িয়ে পড়িয়ে ওনার চোখে সব ক্লিভেজই পিয়োর ভেজ হয়ে গেছে ততদিনে।
     তো বিশ্বদেববাবু বোঝাচ্ছিলেন, আজকাল ইতিহাস নিয়েও চ‍্যাংড়ামি শুরু হয়েছে। ইতিহাসও নাকি বয়ান আর বিরুদ্ধ বয়ানের দ্বন্দ্ব। অবিসংবাদিত সত‍্য বলে নাকি কিছু নেই। দেরিদাকে উদ্দেশ করে বললেন (যদিও দেরিদা সেদিন ক্লাসে অনুপস্থিত)-- বক্তব‍্যমাত্রেই যদি ধোঁয়াটে হয়, তাহলে তুই বাজার করিস কী করে শুনি? আটা চাইলে দোকানদার কি তোকে ডাঁটা দেয়? যত্ত সব!
     এইসব হ‍্যালুমার্কা লেকচার শুনে প্রবালের মাথা কিঞ্চিৎ ঘেঁটে গিয়ে থাকবে। নয়তো ক্লাস শেষ হওয়ার পর আলাপ জমাতে গিয়ে খামোখা অলিভাকে বলতে যাবে কেন -- ভূগোল আমার খুব প্রিয় সাবজেক্ট, তোমার?
ভূগোল মানে? --স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলেছিল অলিভা --এটা তো হিস্টরি ক্লাস ছিল!

এই দুর্ঘটনার পর নিউ বসন্ত কেবিনে চা খেতে খেতে আমরা ডিসাইড করেছিলুম -- এইসব ট‍্যাঁশ মেয়ের সঙ্গে আর আগ বাড়িয়ে কথা নয়। আমাদেরও তো একটা প্রেসটিজ আছে, না কি? কদিন আগে ডিপার্টমেন্টের অনিন্দিতা মুখের ওপর প্রবালকে বলেছিল -- তোকে না একদম হিন্দি সিনেমার ভিলেনদের মতো দেখতে! আমাকে হয়তো জনি লিভার-টিভার বলে। এরা নিজেদের ভাবেটা কী? ওয়েন্ডি ফিটজউইলিয়াম? তাও যদি সুন্দরীরা বোকা না হত!

এরপর আমরা ইতিহাসের ক্লাসে ইতিহাসেই মন দেওয়ার চেষ্টা করি। বিশ্বদেববাবু পড়িয়ে চলেন ঐতিহাসিকদের মতভেদ। বয়ান আর বিরুদ্ধ বয়ানের মাঝে দুলতে থাকে ক্রিস্টাল বল। আমরা কেউ আর ক্রিস্টাল বলে নিজের ভাগ‍্য খোঁজার চেষ্টা করি না। দেখতে দেখতে কলকাতায় গরম কমে আসে। অলিভার সঙ্গে, অন‍্যান‍্য বন্ধুর মতোই, কথাবার্তা-হাসিঠাট্টা শুরু হয়। সবই ক‍্যাজুয়াল কথাবার্তা। এমনকি দু-একবার আমি, প্রবাল আর কয়েকটা মেয়ে একসঙ্গে সিনেমাও দেখতে গেলুম। দলে অলিভাও ছিল। সিনেমা হলের আলো-আঁধারিতে প্রবালের দিকে তাকিয়ে দেখি সেও, আমার মতো, সিনেমাই দেখছে।

সেই অলিভা যে আমায় এত কাছের মনে করে তা আগে বুঝিনি। নইলে এত লোকের এত ভাট বকার মধ‍্যে কবে একবার বলেছিলুম --আমার ব্লাড গ্রুপ এবি নেগেটিভ-- সেটা মনে রাখে? বাগবাজারের বাড়ি থেকে একদিন কাঁদতে কাঁদতে সাতসকালে ওয়‍্যান হস্টেলে এসে হাজির, বাবাকে রক্ত দিতে হবে। ওর বাবার আর আমার একই গ্রুপ। নিজের মধ‍্যে যে এতবড়ো একটা সম্পদ বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি, তা আগে জানা ছিল না। মনে হল এ-ডাক নিয়তির ডাক। মনে হল, নেতাজিই যেন আবার ডাক দিয়েছেন। আমি নিশ্চিত এবার রক্তের বদলে স্বাধীনতার চেয়েও বেটার অফার আছে। তড়িঘড়ি গোলপার্কে পৌঁছে অশোক ল‍্যাবোরেটরিতে দেওয়া গেল রক্ত। দেখলুম, অফারের ব‍্যাপারে খুব একটা ভুল করিনি। একঘর লোকের সামনে জড়িয়ে ধরে গালে চকাস করে একটা চুমু খেল অলিভা -- শিবু, ইউ আর আ ডার্লিং!

প্রবালের সঙ্গে নিউ বসন্ত কেবিনে চা খেতে গিয়ে রসিয়ে রসিয়ে সৌহাগ‍্যের গপ্পোটা করা গেল (সৌহাগ‍্য = হাগ পাওয়ার সৌভাগ‍্য)। তখনই প্রবালের দার্শনিক উক্তি: মেয়েদের সিগনাল ক‍্যাচ করার চেয়ে ডিকনস্ট্রাকশন বোঝা সহজ।

     বাঙালির দার্শনিকতা হচ্ছে হেরে যাওয়ার একটা লক্ষণ। ওই কারণেই প্রেমে ল‍্যাং খেয়ে এত লোক হাবিজাবি কবিতা লেখে। আমি বেশ বুঝতে পারলুম -- প্রবাল আমাকে একটু হিংসে করছে। ওরও তো অলিভার দিকে একটু টাল ছিল! হিংসে না হলে কয়েকদিন ছাড়া ছাড়া কেউ বলে 'কী রে, সেদিনের পর তোদের আর হাগাহাগি হল?'
     আমার অবশ‍্য একটু খারাপই লাগছিল। একই হস্টেলে থাকি। একসঙ্গে ওঠাবসা। অথচ একটা মেয়ের কিস মিস করে আমাদের বন্ধুত্বটাই ডিসমিস করে দিতে চাইছিল যেন প্রবাল। একদিন সহজ করার চেষ্টায় বললুম -- অলিভা ওর সঙ্গে আমায় বইমেলা যেতে বলছে।
- তো? আমাকে শোনাচ্ছিস কেন?
-'তো' মানে তুইও যাবি যদি চ। মজা হবে। আড্ডাটাড্ডা জমবে ভালো।
-পাগল? --হেসে বলল প্রবাল; পির‍্যামাস আর থিসবি-র মাঝে পাঁচিল হয়ে দাঁড়াতে আমি রাজি নই।

বইমেলার পথে বাসে মিডসামার নাইটস ড্রিমের কথা মনে পড়ছিল। নাটকটা অসাধারণ পড়িয়েছিলেন শবরীদি। প্রেম আর সম্পর্কের জটিলতা থেকে কতরকমের যে মজা তৈরি হয় নাটকটাতে! মাঝখানে তো আমার রীতিমতো কনফিউশন হত নামগুলো নিয়ে। কে যে কাকে ভালোবাসে -- সব যেত গুলিয়ে। বাসেই প্রথম অলিভা আমার হাত ধরেছিল।

কলকাতা বইমেলা এক আজব জায়গা। বই কত বিক্রি হয় জানি না, তবে বিরিয়ানির দোকান কোটিপতি হয়ে যাওয়ার কথা। লিটল ম‍্যাগ প‍্যাভিলিয়নে আবার পাগলদের কদর বেশি। যে যত এলিয়েন-মার্কা হাবভাব নিয়ে থাকতে পারবে, সে তত হিট। পাবলিকের মনোযোগ টানার জন‍্য কেউ দাড়িতে রামধনু রং লাগিয়ে আসে, কেউ সারা গায়ে পোস্টার লাগিয়ে ঘুরে বেড়ায়, কেউ নামিবিয়ার বাচ্চাদের খাদ‍্যসমস‍্যা দূরীকরণের জন‍্য চাঁদা তোলে, কেউ প্রকাশ‍্যে গাঁজা টানে, কেউ গিটার নিয়ে ভালোভালো গানগুলো অভিনব সুরে গাইবার চেষ্টা করে। আমার এইসব দেখে মজা লাগে। তাই সেদিকেই হাঁটা লাগিয়েছিলুম, কিন্তু হাতে পড়ল টান। ও হরি! বাসে হাতটা অলিভা সেই যে ধরেছিল আর ছাড়েইনি! গোটা শরীর কেমন অবশ হয়ে গেল। ভাগ‍্যিস কলকাতায় পড়তে এসেছিলুম!

     তুই সঙ্গে থাকলে আমার খুব ভরসা হয়-- আইসক্রিম খেতে খেতে বলল অলিভা-- তোকে পেয়ে আমার একটা ভাই না থাকার দুঃখটা কেটে গেল।
-ভাই? -- আইসক্রিম খেয়ে গলাটা কেমন যেন বুজে আসছিল আমার।
-ভাই নয়? দ‍্যাখ না , তোর রক্ত বইছে এখন বাপির শরীরে, সেই রক্ত আবার আমার শরীরেও। উই আর লাইক ব্লাড রিলেশনস নাও।
মনে হল-- আমি, আমার চারপাশ, পায়ের নীচের মাটি সব যেন গলে গলে পড়ছে, অলিভার আইসক্রিমটার মতো। এইচ-এস অবধি সায়েন্স ছিল আমার । তাই শেষ চেষ্টা করা গেল -- হিমোগ্লোবিনের আয়ু বেশি নয়, জানিস তো? আমার সেই রক্ত কি কাকুর শরীরে এখনও...
-হি হি হি, শিবু, তুই না! তোর মাথায় কিছু আসেও বটে।
গোটা আর্গুমেন্টটাই বইমেলার ধুলোচাপা পড়ে গেল।

আবার হাত ধরে টানল অলিভা, একটু ওইদিকে চল না!
আমি আর পায়ে জোর পাচ্ছিলুম না। গলার স্বরে আট-আনা ক্লান্তি আর আট-আনা বিরক্তি-- ওদিকে কী আবার?
-ওই যে ওরা ছবি আঁকছে, আর্ট কলেজের স্টুডেন্টরা, ওখানে চ না একবার।
-ছবি আঁকাবি নিজের? আমার কিন্তু পোজটোজ দেওয়ার ধৈর্য নেই।
     নিজের ছবি নয়, মাথা নিচু করে লাজুক হাসল অলিভা, আশুতোষ রানা-র ছবি এঁকে দিতে বলব একটা। বেডরুমে রাখব।
-আশুতোষ রানা? -- আমার তখন চোখমুখ হিংসেয় সবুজ।
-তুই দেখেছিস তো ওর অভিনয়? ভালো না? বল? আমার তো জাস্ট ফাটাফাটি লাগে।

Sunday, October 29, 2017

তিরিশে অক্টোবর, ২০১৭

তিরিশে অক্টোবর, ২০১৭
মুক্তিপ্রকাশ রায়

(সুকুমার রায়-এর জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ‍্য)

মিলছে না তাল, লাগছে না সুর
জীবনযাপন গম্ভীর
মন্ত্র নেব পাগলা দাশুর
দেখব কোথায় কম ভিড়
কানের কাছে জীবন যেন
ভীষ্মলোচন শর্মা
সুর মিলিয়ে দে বাগদেবী
একটু দয়া কর মা!
বাড়ছে ভুঁড়ি, দেখলে মরে
কুমড়োপটাশ লজ্জায়
কাঠবুড়োরা ডিগ্রি বেচে
অ্যাকাডেমির দরজায়
পেঁচার মতো অন্ধ আইন
রাত করে চোর দিনকে
সব হেশোরাম স‍্যালুট মারে
শ্রী ব‍্যাকরণ সিংকে
রুমাল থেকে বেড়াল হলে
কে করে লেজ কর্তন
"ভয় পেয়ো না, ভয় পেয়ো না"
বলছে পরিবর্তন

Thursday, October 26, 2017

বিদ্বজ্জন

বিদ্বজ্জন
মুক্তিপ্রকাশ রায়

("ভবসাগরতারণকারণ হে"-গানটির তালে পড়তে অনুরোধ করি)

আমি ধরতে রাজি ওঁচা ব‍্যক্তিরও পা
গুরু মানতে রাজি, যদি পাই শিরোপা
যদি পাউরুটি পাই, সাথে জ‍্যাম-ঝোলাগুড়
রাতকানা পেঁচাটিই যেন লক্ষ্মীঠাকুর
বুড়ো গাধাটি স্বয়ং লতা মঙ্গেশক‍র
কে যে কবিগুরু তুই তা এখন গেস কর
কাটা মুন্ডুকে বাঁধা রাখে রাজদরবার
সব পোষ‍্যরা খুশি, পেলে চিবোনোর হাড়
গজদন্ত মিনার চেপে আমরা ক'জন
ল‍্যাজ নাড়ি তবু লোকে ভাবে বিদ্বজ্জন

Saturday, October 21, 2017

সেই ছেলেটির গল্প

সেই ছেলেটির গল্প
মুক্তিপ্রকাশ রায়

ধুরন্ধর বিচক্ষণ বয়স তার উনিশ-বিশ
রাত দুটোয় জাল গোটায়, ভাইফোঁটায় আব্বুলিশ
পদ‍্য নয়, টোপ ছড়ায়; ঝোপ বুঝে পানপরাগ
ভঙ্গিতেও জঙ্গিভাব, সঙ্গী তার জুকারবার্গ
সকাল তার শঙ্খদার, বিকাল তার নন্দনেই
গোঁসাইজির বাগানটির ফুলতোলাও বন্ধ নেই
শক্তিমান, ভক্তিমান, যখন চান এনজিও
সুবোদ্ধা মিস করেন, কিস করেন সেনদিও
এইপাড়ায় সাব-অল্টার্ন, ওইপাড়ায় দামিও সে
একটু ভয় সে-ই আমি, একটু ভয় আমিও সে

Friday, October 13, 2017

আধুনিক

আধুনিক
মুক্তিপ্রকাশ রায়

একসময়ে ফোঁস ছিল খুব
এখন সবই অলীক
সময় যেন তেজের ফণায়
ঢেলেছে কার্বলিক
আয়না এখন ভেংচি কাটে
বায়না তবু অটল
বস ভেবেছে কুকুর, শ্বশুর --
প্লেটো, অ্যারিসটোটল
বন্ধুনেতা ছোঁ মেরে খায়
যেমন শকুন, কি চিল
এক রাজা যায়, আরেক আসে
এক রয়ে যায় মিছিল
আমার শুধু ক‍্যালি -- ছড়ায়
মিল দিয়েছি খেটে
সমালোচক ভাবেন পাছে
নিতান্ত ব‍্যাকডেটেড

Friday, October 6, 2017

কবিতার জন্ম

কবিতার জন্ম
মুক্তিপ্রকাশ রায়

কথাগুলো উবে যায় কথোপকথনে

শব্দেরা হালকা হয়ে
গ‍্যাসবেলুনের মতো উড়ে যায় ভুল ঠিকানায়

গেরস্থালি ধৈর্য নিয়ে
একা-থাকা পেতে রাখে কেউ
ঘরোয়া দইয়ের মতো না-বলা কথারা
জমাট কবিতা হয়ে ওঠে

নীরবতা কবিতার জন্ম দেয় বলে
ঘুমন্ত শিশুর চেয়ে সফল কবিতা
          আজও কেউ লিখতে পারেনি

Thursday, July 13, 2017

দানরহস‍্য Daanrahasya

দানরহস‍্য
মুক্তিপ্রকাশ রায়

বাগে পেলে জ্ঞান দেয়
ওঠে যারা ডায়াসে
যে কেবল সায় দেয়
তবলার বাঁয়া সে
চেপে দেয় বাস-লরি
ছেপে দেয় এডিটার
কে কাকে অভয় দিলে
কেরিয়ার স্টেডি তার
খুঁজে খুঁজে কেটে গেল
এ-জীবন গাড়লের
ঘরে বউ বকা দেয়
ঠ‍্যাং কাঁপে বার হলে
মণীষীরা বাণী দেন
বেদনা কা কস‍্য
কে যে দেয়, কাকে দেয়
সেটাই রহস‍্য

Sunday, July 9, 2017

গদি Godi

গদি
মুক্তিপ্রকাশ রায়

গদি যাকে মারে, গদি যাকে ধরে
কোন হরি তাকে বাঁচায়?
খিদে-পায়খানা চেপে রাখি যদি
গদির মালিক না চায়
কোন ফুকো দিয়ে কে দ‍্যাখে কে জানে!
তালা দিয়ে রাখি চোখে নাকে কানে
হয়তো বগলে রেকর্ডার দেবে
সিসিটিভি ডান পাছায়!

আন্তর্জালে জাল পেতে গদি
কবি ধরে খায় খপাত
কলিকালে সব সাধনই বিফল
সিদ্ধি তো নাম জপাৎ
কেউ যদি লেখে গদির জীবনী
সে হয় সুবোধ, সেই সোনামণি
কেউ বলে, আয়, ধুলোটুলো ঝেড়ে
হাত পাতবি তো চ পাত



Friday, July 7, 2017

প্রোটেকশন Protection

প্রোটেকশন
মুক্তিপ্রকাশ রায়

শোন ওরে ছোঁড়া
কালিদাস তোরা
এ 'আমরা-ওরা' chess খেলে
মুষলপর্বে
ভোটার মরবে
কে হাত ধরবে কেস খেলে?
শোন রে জঙ্গি
বা বজরঙ্গি
অঙ্গভঙ্গি বীভৎস
আমি আছি যার
ল অ্যান্ড অর্ডার
ছিঁড়বে তাহার কী বৎস?
শুধু মেপে জল
সাবধানে চল
বা কর্মফল go, take son!
আমাকে না বলে
হাঙ্গামা হলে
কে দেবে তাহলে প্রোটেকশন?